কোরআন আল্লাহ অদ্বিতীয়ত্বের গৌরবময় সাক্ষ্য। মানবজাতির বিশ্বাসের - Newsteamincecto কোরআন আল্লাহ অদ্বিতীয়ত্বের গৌরবময় সাক্ষ্য। মানবজাতির বিশ্বাসের - Newsteamincecto
March 6, 2021, 5:59 pm

কোরআন আল্লাহ অদ্বিতীয়ত্বের গৌরবময় সাক্ষ্য। মানবজাতির বিশ্বাসের

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, January 9, 2021,
  • 18 Time View

আজকের আলোচনাঃ
সারা বিশ্বের বিধর্মীদের দৃষ্টিতে নুর নবীজি(দঃ)এর মর্যাদা।

প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই পৃথিবীতে এমন এক সময়, এমন এক জায়গায় আগমন করেছিলেন যে সময়টি মানবতার ইতিহাসে একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন সময় ছিল এবং সে জায়গাটি পৃথিবীর সবচাইতে নিকৃষ্ট জায়গা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলো। সেই সময়ে সেই বর্বর জাতিটিকে তিনি এমন এক সোনার জাতিতে পরিণত করলেন যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। কিন্তু এই অলৌকিক কাজটি কিভাবে সম্ভব হলো? এটাও প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি মুজেযা। তিনি শুধু একটি ধর্মই প্রতিষ্ঠিত করে যাননি তিনি একটি আদর্শ সমাজ, আদর্শ জাতি, আদর্শ রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন। আর এসব কিছু সম্ভব হয়েছে নবীজির অতুলনীয় মহান নিষ্পাপ চরিত্রের দ্বারা। নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যত কাজ করেছেন, যত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সব কিছু ছিলো নির্ভুল, নিখুত। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের পক্ষে এমনটা সম্ভব ছিলো না। পৃথিবীতে যত জ্ঞানী, গুণী কিংবা মনিষী রয়েছেন তারা আজ পর্যন্ত কত মতবাদ উপহার দিয়েছেন কিন্তু কোন মতবাদই মানুষের জন্য প্রকৃত শান্তি বয়ে আনতে পারেনি। কারণ তাদের মতবাদে কোথাও না কোথাও কিছু না কিছু ভুল রয়ে গেছে। আর প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কারো মতো ছিলেন না। তাঁর প্রতিটি কাজ প্রতিটি কথা ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। আর তাইতো নবীজির সংস্পর্শে এসে সব কিছু হয়ে গেছে খাঁটি সোনা।

নবীজির এমন সাফল্য সারা দুনিয়াবাসীকে অবাক করেছে। বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেছে গোটা বিশ্ব। বিশে^র সকল বিধর্মী জ্ঞানী ব্যক্তি বা মনিষীগণ তাই অকুন্ঠচিত্তে তাঁর প্রশংসা করেছেন। এমনই কিছু মনিষীর মন্তব্য তুলে ধরা হলো।

১। মাইকেল এইচ হার্ট নামক আমেরিকার এক লেখক তার বই “The 100, A ranking of the most influencial persons in history” যেখানে তিনি পৃথিবীর ইতিহাসের সর্বাধিক প্রভাবশালী ১০০ জন ব্যক্তির তালিকা তৈরি করেন এবং তিনি এই তালিকার প্রথম ব্যক্তি হিসেবে নির্বাচন করেছেন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন-

“My choice of Muhammad to lead the list of the world’s most influencial persons may surprise some readers and may be questioned by others, bu he was the only man in history who was supremely successful on both the secular and religious level.
It is porable that the relative influence of Muhammad on Islam has been larger than the combined influence of Jesus Christ and St. Paul on Chiristianity.
It is this unparalleled combination of secular and religious influence which I feel entitles Muhammad to be considered the most influential single figure in human history.”

অর্থাৎ- “সর্বকালের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকার শীর্ষে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আমার নির্বাচন করাটা কিছু পাঠককে হয়তো বিস্মিত করবে আবার অনেকের মনে প্রশ্নের উদ্রেক করতে পারে কিন্তু ইতিহাসে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি সেকুলার এবং ধর্মীয় উভয় পর্যায়েই সর্বোচ্চ সফল হয়েছিলেন। সম্ভবত ইসলামের উপর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তুলনামূলক প্রভাব খ্রীষ্টান ধর্মের উপর যীশু ও সেইন্ট পলের সম্মিলিত প্রভাবের চেয়ে বেশি। আমি মনে করি ধর্মীয় এবং সেকুলার উভয়ক্ষেত্রে এই অতুলনীয় প্রভাবই তাকে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী একক ব্যক্তি হিসেবে শীর্ষস্থানে অধিষ্ঠিত করেছে।”

২। মহাত্মা গান্ধী “Young India” তে লিখেন
“I became more than ever convinced that it was not the sword that won a place of Islam in those days in the scheme of life. It was the rigid simplicity, the utter self-effacement of the Prophet, the scrupulous regard for pledges, his intense devotion to his friends and followers, his intrepidity, his fearlessness, his absolute trust in God and in his own mission. These and not the sword carried everything before them and surmounted every obstacle.”
অর্থাৎ- “আমি যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি নিশ্চিত যে ইসলাম সে সময় তলোয়ারের দ্বারা মানুষের জীবন ধারাতে স্থান করে নেয়নি। বরং অনমনীয় সরলতা, নবীর পরিপূর্ন আত্নবিসর্জন, অঙ্গীকার পূরণে সতর্কতা, বন্ধু ও অনুসারীদের প্রতি নিজেকে চরমভাবে উৎসর্গ করা, তার সাহস, তার ভয়হীনতা, সৃষ্টিকর্তার প্রতি তার অটল বিশ্বাস এবং তার কর্মপরিকল্পনা এগুলোই ইসলামকে সফল করেছে। এসবই মুসলমানদেরকে সকল বাঁধা অতিক্রম করতে সাহায্য করেছে।”

৩। থমাস কার্লাইল তার বই “On Heroes, Hero-Worship, and the Heroic in History” তে লিখেন-
“How one man single handedly, could weld warring tribes and Bedouins into a most powerful and civilized nation in less than two decades?”
“the lies (Western slander) which well-meaning zeal has heaped round this man (Muhammad) are disgracefull to ourselves only.”
অর্থাৎ- “একজন মানুষ এক হাতে কিভাবে দুই দশকেরও কম সময়ে একটি যুদ্ধপ্রিয় গোত্র এবং বেদুঈনদেরকে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী এবং সভ্য জাতিতে পরিণত করতে পেরেছিলেন।”
“এই লোকটিকে ঘিরে যে মিথ্যাগুলো (পশ্চিমা অপবাদ) পুঞ্জিভুত হয়ে আছে যার ভালো অর্থ হতে পারে ধর্মান্ধতা, তা আমাদের নিজেদের জন্যই লজ্জাজনক।”

৪। জর্জ বার্নার্ড শ তার বই “The Genuine Islam” এ লিখেন-
“I have always held the religion of Muhammad in high estimation because of its wonderful vitality. It is the only religion which appears to be to possess that assimilating capacity to the changing phase of existence which can make itself appeal to every age.
I believe if a man like him were to assume the dictatorship of the modern world he would succeed in solving its problems in a way that would bring much needed peace and happiness. I have studied him- the man and in my opinion is far from being and anti-Christ. He must be called the Savior of Humanity.

I have prophesied about the faith of Muhammad that it would be acceptable in the Europe of tomorrow as it is beginning to be acceptable to the Europe of today.”
অর্থাৎ- “মুহাম্মদের ধর্মের প্রতি আমি সবসময় সুউচ্চ ধারণা পোষণ করি কারণ এর চমৎকার প্রাণবন্ততা। আমার কাছে মনে হয় এটাই একমাত্র ধর্ম যেটা সদা পরিবর্তনশীল জীবনযাত্রার সাথে অঙ্গীভুত হওয়ার ক্ষমতা রাখে যা প্রত্যেক যুগেই মানুষের হৃদয়ে আবেদন রাখতে সক্ষম।
আমি বিশ্বাস করি তাঁর মতো ব্যক্তির নিকট যদি আধুনিক বিশে^র একনায়কতন্ত্র অর্পণ করা হতো তবে এর সমস্যাগুলো তিনি এমনভাবে সফলতার সাথে সমাধান করতেন যা বহু প্রতিক্ষিত শান্তি ও সুখ আনয়ন করতো। আমি তাঁর (মুহাম্মদ) সম্বন্ধে পড়াশোনা করেছি- চমৎকার একজন মানুষ এবং আমার মতে খ্রীষ্টবিরোধী হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে অবশ্যই মানবতার ত্রাণকর্তা বলতে হবে।
আমি ভবিষ্যদ্বানী করছি যে মুহাম্মদের ধর্মবিশ্বাস আগামীদিনের ইউরোপের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে, যা ইতিমধ্যে বর্তমান ইউরোপে গ্রহণযোগ্যতা পেতে আরম্ভ করেছে।”

৫। একজন রাশিয়ান মহিলা তার সন্তানের ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে মতামত জানতে চেয়ে লিও টলস্টয়কে একটি চিঠি লিখেছিলো। তার জবাবে লিও টলস্টয় লিখে- “Your son and I are of the same opinion that religion of Islam and Muhammad’s teaching are more valuable and have a higher position compared of Christian teachings. I congratulate your son who serves in the Devine ritual. One who is writing these lines for you now is Christian and has practiced Christianity for several years but wants to tell you that Islam and Muhammad’s teachings seem to be more complete and valuable than Christian teachings. Islam is far from the abnormal matters. At the apex of Islam, is Prophet Muhammad in whose teachings lies the essences of all sacred religions. His lessons are consistent with most of Christian teacings because the bases of all Devine religions are Allah. Religions’ advices intended to encourage people ot believe in God. So what can fulfill this object better would be more respectfull; that is Islam.”

অর্থাৎ- “তোমার ছেলে এবং আমি, আমাদের উভয়েরই একই মতামত যে, ইসলাম ধর্ম এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিক্ষা খ্রিষ্টান ধর্মের চেয়ে অনেক দামী এবং উচ্চ মানের। আমি তোমার ছেলেকে অভিনন্দন জানাই যে এই স্বর্গীয় ধর্মের সেবা করছে। এই মুহুর্তে যে এই কথাগুলো তোমার উদ্দেশ্যে লিখছে সে একজন খৃষ্টান এবং খৃষ্টান ধর্ম পালন করছে অনেক বছর ধরে কিন্তু সে তোমাকে বলতে চায় যে, ইসলাম ধর্ম ও নবী মুহাম্মদের শিক্ষা খৃষ্ট ধর্মের চেয়ে অনেক অনেক বেশি পূর্ণাঙ্গ ও মূল্যবান। ইসলাম অনেক অস্বাভাবিক বিষয় থেকে অনেক দূরে। মুহাম্মদ রয়েছেন ইসলাম ধর্মের শীর্ষে। তার প্রচারিত শিক্ষাগুলোর মধ্যে সব ধর্মের মূল শিক্ষাগুলো রয়েছে। তার শিক্ষাগুলোর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে খৃষ্টান ধর্মের শিক্ষার সাথে মিল আছে কারণ সকল স্বর্গীয় ধর্মের মূলে আছেন আল্লাহ। ধর্মগুলো মানুষকে খোদায় বিশ্বাসী হতে উৎসাহ দেয়। আর যেই ধর্ম এই দায়িত্ব পালনে ও এই বানী প্রচার ভালোভাবে সম্পন্ন করে সেই ধর্ম বেশি শ্রদ্ধাভাজন হবে, আর সেই ধর্মই হলো ইসলাম।”

৬। ঐতিহাসিক এডওয়ার্ড গিবনের মতে-
“মুহাম্মদের ধর্মমত দ্ব্যার্থকতার সন্দেহ থেকে মুক্ত এবং কোরআন আল্লাহ অদ্বিতীয়ত্বের গৌরবময় সাক্ষ্য। মানবজাতির বিশ্বাসের উপর বিধিসম্মত আধিপত্য বিস্তার করা শুধু সৃষ্টিকর্তা প্রেরীত নবী ছাড়া কারো পক্ষে সম্ভবপর নয়।”

এমন জীবন করলে যাপন
ধন্য ধন্য বলে সবে,
বিধর্মীরাও মুগ্ধ হয়ে
বলে সেরা তুমি ভবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

 21 total views,  3 views today

© Copyright 2020, All Rights Reserved by Newsteamincecto.com |

কারিগরি সহযোগিতায়: Best1dev
ServerEO